দক্ষিণ ককেশাসের দেশ Armenia দীর্ঘদিন ধরে Russia-এর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইউরোপের ৩০টির বেশি দেশের নেতা ও Canada-এর প্রধানমন্ত্রী দেশটির রাজধানী Yerevan-এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে অংশ নিতে জড়ো হচ্ছেন, যা আর্মেনিয়ার জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে European Political Community-এর শীর্ষ সম্মেলন। পরদিন প্রথমবারের মতো European Union-আর্মেনিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্মেলনে অংশ নেবেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট Ursula von der Leyen এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট Antonio Costa।
আর্মেনিয়া এখনো Eurasian Economic Union-এর সদস্য, যা Vladimir Putin-এর নেতৃত্বাধীন একটি জোট। দেশটিতে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং জ্বালানি খাতে মস্কোর ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য।
২০২৩ সালের যুদ্ধ: মোড় ঘোরানো ঘটনা
পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ২০২৩ সালে Azerbaijan-এর সঙ্গে সংঘর্ষকে। নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলে সামরিক অভিযানে আজারবাইজান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলে লাখের বেশি আর্মেনীয় বাস্তুচ্যুত হয়। এই সময়ে রুশ শান্তিরক্ষী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে আর্মেনিয়ার ভেতরে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়।
ইউরোপের দিকে ঝুঁক
এরপর থেকেই European Union আর্মেনিয়া-আজারবাইজান সীমান্তে মধ্যস্থতা করে এবং একটি পর্যবেক্ষণ মিশন মোতায়েন করে। এতে ইউরোপের প্রতি আস্থা বাড়ে। ২০২৫ সালের মার্চে আর্মেনিয়ার পার্লামেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু করার আইন পাস করে।
একই সঙ্গে United States-এর মধ্যস্থতায় শান্তি চুক্তি ও আঞ্চলিক করিডোর পরিকল্পনাও সামনে আসে, যা ইউরোপের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়।
মস্কোর চাপ ও সতর্কতা
আর্মেনিয়ার এই ইউরোপমুখী অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মস্কো। Vladimir Putin সতর্ক করে বলেছেন, একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের সদস্য থাকা সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে কিছু বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে রাশিয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি সাইবার হামলা ও ভুয়া তথ্য প্রচারের মতো ‘হাইব্রিড হুমকি’ও বাড়তে পারে।
সামনে নির্বাচন, বাড়ছে ঝুঁকি
আগামী জুনে আর্মেনিয়ায় জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে Council of Europe গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুরক্ষায় সতর্কতা জারি করেছে।
ভারসাম্যের রাজনীতি
যদিও ইউরোপ আর্মেনিয়াকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তবে পূর্ণ সদস্যপদ বা নিরাপত্তা গ্যারান্টি এখনো অনিশ্চিত। অন্যদিকে রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কাটানোও সহজ নয়।
সব মিলিয়ে, ইয়েরেভানের এই সম্মেলন কেবল কূটনৈতিক আয়োজন নয়—বরং এটি আর্মেনিয়ার ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে দেশটিকে এখন ভারসাম্য রক্ষার কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি



















